November 27, 2022
Monday, 18 November 2019 12:57

গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি ভোলাভুলি অনুষ্ঠিত

✍ মোঃ আলাল মিয়া ,নবীগঞ্জ
ভোলাভুলি সংক্রান্তি বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী একটি অনুষ্ঠানের নাম। আপনাদের হয়ত অনেকেরই মনে আছে কার্তিক মাসের শেষ দিন গ্রাম অ লে ভোলাভুলির নামে সন্ধ্যার দিকে একটি অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু এর বিস্তৃতি কমে এসেছে  অনেক বেশি, বাংলার বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এই ভোলাভুলি অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। গতকাল রবিবার  কার্তিক মাসের শেষ দিন হওয়ায় নবীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় ভোলাভুলি। বিশেষ করে নবীগঞ্জ উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বীরা এ অনুষ্ঠান বেশির ভাগ লোকেরা পালন করতে দেখা যায়। বাঁশ ও খড় দিয়ে ভোলা তৈরি করা হয়। সন্ধ্যায় ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা একত্রিত হয়ে এই ভোলায় আগুন ধরিয়ে দেয়, নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় ভোলা।  ভোলায় আগুন ধরানোর সময় সবাই বলত - ভোলা পুড়, ভুলি পুড়, মশা মাছি বাইর-হ, টাকা পয়সা ঘর-ল, সংসারের জঞ্জাল দূর-হ ভোলাভুলি'র অন্যতম আকর্ষণ ছিল-এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গিয়ে কলা গাছের ডাল দিয়ে মানুষের ভোলা ছাড়ানো। এই ভোলা ছাড়ানোর সময় বলা হতো- ভোলা ছাড়, ভুলি ছাড় বার মাইয়া পিছা ছাড়। ভাত খাইয়া লড়চড়, পানি খাইয়া পেঠ ভর। খাইয়া না খাইয়া ফোল হাজার টাকার মূল, সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে এটি ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠান মনে করা হলেও এটি হিন্দু-মুসলিম সবাই সমানভাবে পালন করে থাকেন। যদিও ভোলাভুলি নিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে মাসব্যাপী চলে আয়োজন। এ সময় প্রতিদিন সকালে ¯œান করে দেবতাকে ভোগ দেয়া হতো। আর মাসব্যাপী এই সংযমের শেষদিন ভোলা সংক্রান্তি হিসেবে এই ভোলাভুলি পালন করা হয়। কিন্তু ভোলাভুলি এখন বিলুপ্তের পথে, তবে এখনো অনেক গ্রামে ভোলাভুলি অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। আবার কিছু কিছু অ লে বর্তমানে এই ভোলাভুলি সম্পর্কে জানেই না। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের বারেন্ড দাস জানান,ভোলাভুলির জন্য অপেক্ষায় থাকতাম,কখন ভোলাভুলি আসবে। ভোলাভুলি তে সারাদিন ও মাঝরাত পর্যন্ত আমরা অনেক আনন্দ করতাম। কিন্তু এখন আর আগের মতো ভোলাভুলি হয় না। একই উপজেলার গয়াহরির গ্রামের রতু  শীল  বলেন, ভোলাভুলিতে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে অনেক আনন্দ উৎসব হতো। অনেকে মাইক দিয়া গান বাজনা করতেন। কিন্তু এখন শুধু সন্ধ্যার সময় ভোলা পুড়ানো ছাড়া আর কোন অনুষ্ঠান হতে দেখি না। পরে সুজাপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা মহিলা স্বপনা দেব বলেন-ভোলাভুলির দিন আমরা গ্রামের সকল বান্ধবিরা মিলে টুপাটুপি ভাত রান্না করতাম ও মাঝ রাতে সবাই মিলে একসাথে আনন্দ করে খেতাম। সন্ধায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা কলা গাছের ঢাল দিয়ে খেয়ালিদেরকে (নানা, নানী,দাদা,দাদী,ভাবি ইত্যাদি) ভোলা ছাড় ভুলি ছাড় বলে শরীরে মৃদু(বাড়ি) দিত। অনেক শিশুরা পাট শোলার কাটিতে বা কাপড়ে কেরোসিন দিয়ে এ বাড়ি সে বাড়ি দৌড়ে বিভিন্ন ধরনের ছড়া বলত। ছড়ার মধ্যে ছিল, ভালা আয়, বুরা যায়, মশা মাছি পোড়া যায়। ঐদিন (কার্তিক মাসের শেষ দিন) সনাতন ধর্মালম্বীরা  বাড়ি বাড়ি কার্তিক পূজা পালন করা হয়ে থাকে। অনেক বাড়িতে বাড়ি  ঘর সাজানো ও ভাল খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
 
Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular